Name: Rehana Maryam Noor
Director: Abdullah Mohammad Saad
Writer: Abdullah Mohammad Saad
Stars: Azmeri Haque BadhonFarzana BithiAfia Jahin Jaima
বাংলাদেশ থেকে ৯৪ তম অস্কারে প্রতিযোগীতায় যাওয়া এ বছরের একমাত্র মুভি। মুক্তির পূর্বেই ভূয়সী প্রশংসা পেয়ে কান চলচ্চিত্র উৎসবে। তাই প্রবল আগ্রহ নিয়ে দেখে আসলাম স্টার সিনেপ্লেক্সের মিরপুর শাখায়।
মুভির মেকিং ছিল চমৎকার। ক্যামেরার ব্যবহার এবং সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিল প্রফেশনালিজম। একটু ডার্ক-ব্লুইশ কালার গ্রেডিং ব্যবহার করা হয়েছে, যা আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রে বেশ অনেকটাই ব্যতিক্রম। রুল অব থার্ড মেনটেইন করা হয়েছে, যা আসলেই প্রশংসনীয়। লাইটের সঠিক ইমপ্লিমেন্টেশন ছিল মুভিটিতে, হলিউড স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে লাইট সোর্সের উল্টোপাশ থেকে শট নেয়া হয়েছে যার জন্য স্ক্রিনে গল্পের ডার্ক টোনের উপযোগী একটা টেনশন ক্রিয়েট করা সম্ভব হয়েছে। কালজয়ী কিংবদন্তী হলিউড ডিরেক্টর মার্টিন স্কোরসেসের কাজের মত করে "ওভার দ্য শোল্ডার" শটসের ও ছড়াছড়ি ছিল মুভিটা জুড়ে। এই বিশেষ এফোর্টের জন্য ডিরেক্টর আবদুল্লাহ্ মোহাম্মদ সাদ প্রশংসার দাবীদার।
নাম ভূমিকায় অভিনয় করা আজমেরী হক বাঁধন ছিলেন নিজের চরিত্রের সাথে মানানসই। বিশেষ করে মুভির ক্লাইম্যাক্স সিনে তাঁর অভিনয় যেকোন ক্রিটিক্সকে কনভিন্স করতে সক্ষম যে বাঁধন অভিনয় জানে। তবে মুভিতে সকল কাস্টদের মধ্যে সেরা অভিনয়টা বাঁধনের কাছ থেকে আসেনি। কার থেকে আসলো তাহলে? বলছি...
গেলো ভাল দিকগুলো, এবার কিছু নেগেটিভ সাইডে আসি।
প্রথমত, ক্যামেরা হোল্ডিং। মুভিতে যে ধরনের সিন আছে সেগুলোর প্রায় সবগুলোই প্লেইন, স্টোরিবেইজড। স্টোরিবেইজড মুভিতে স্টেডি ক্যাম শট-ই পার্ফেক্ট। শুধু শুধু হ্যান্ড হেল্ড শট নিয়ে শেকি ইমেজ নেয়ার কোন প্রয়োজনই ছিল না। এত বড় একটা ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্টের ক্ষেত্রে এই সাবধানতা অবলম্বন করাটা জরুরি ছিল, একটা গিম্বলের পিছনে ইনভেস্ট করাই যেতো।
দ্বিতীয়ত, যদিও সবাই বলছে যে বাঁধন ভাল অভিনয় করেছে তবে আমার সেটা মনে হয়নি। উনি রেহানার হাইলি এ্যারোগেন্ট ক্যারেক্টারকে ফুটিয়ে তোলার জন্য ঠাস-ঠাস কথা বলা, হঠাৎ করে ঝাড়ি দেয়া, এসবে ফোকাস করতে গিয়ে অভিনয়ের দিকে তাকাননি। ফলে তিনি চরিত্রকে আপন করে নিতে পেরেছেন ঠিকই, কিন্তু ঐ এক ক্লাইম্যাক্স সিন ছাড়া পুরো মুভিতে তার অভিনয় খুবই লুজ ছিল। পুরোটাই ছিল ক্যারেক্টারের ভিতরে ক্যারেক্টার হবার চেষ্টা।
তবে ভাল খারাপ মিলিয়ে রেহানা মারিয়াম নূর ছিল বেশ উপভোগ্য। আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে সবচেয়ে ভাল অভিনয় কে করেছে, আমি বলবো আফিয়া জাহিন জাইমার নাম। খুব সম্ভবত ৭ বছর বয়সী জাইমা ইমুর চরিত্রে প্রাণ এনে দিয়েছে। ছোট্ট জাইমার জন্য এত্তোগুলো আদর আর ভালোবাসা।
মুভিটা সমসাময়িক অত্যন্ত ভাইটাল একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে, সেটি হলো রেপ। তবে লেখক খুব যত্ন নিয়ে স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। যখন রেহানার চরিত্র এ্যানীর চরিত্রকে বলে "এত্ত কড়া পারফিউম ইউজ করবে না এ্যানী, এটা খুব পার্সোনাল একটা জিনিস", তখনই বুঝা গেছে যে লেখক গল্পে ব্যালেন্স রাখার চেষ্টা করেছেন।
রেহানা মারিয়াম নূর ৯৪ তম অস্কারে সেরা বিদেশী চলচ্চিত্র বিভাগে নমিনেশন পাবে কিনা সেটা সময় বলে দিবে, তবে যেকোন সম্মাননার চেয়ে বেশি ইমপর্টেন্ট মুভির মান। ১৯৭৬ এ মুক্তি পাওয়া ট্যাক্সি ড্রাইভার অস্কার পায়নি, তাই বলে মার্টিন স্কোরসেসে পরিচালিত এই মাস্টারপিসকে কেউ ফেলে দেয়নি। বরং আগলে রেখেছে যত্ন করে, সর্বকালের অন্যতম সেরা মুভিগুলোর একটি হিসেবে।
অস্কার পাক বা না পাক, রেহানা মারিয়াম নূর আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সম্পদ। আমাদের উচিত এই মুভি থিয়েটারে গিয়ে দেখা, এসব মুভি যত বেশি মানুষ টাকা দিয়ে দেখবে, তত বেশি সম্ভাবনা থাকবে বাংলা ছবির সুদিন ফিরে আসার।
মুভিটা ডাউনলোড করুন [GDrive Link]
Note: মুভি লিংক কাজ না করলে কমেন্টে জানান। আমরা চেষ্টা করবো যতদ্রুত লিংকটি ঠিক করার। কোনো মুভি রিকুয়েষ্ট থাকলেও সেটা কমেন্টে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ